লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় সীমিত বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বুধবার এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এই নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও স্থগিত করা হয়েছে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনাকাটা করা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্যান্য নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও যান কেনা বন্ধ থাকবে, তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য।

অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে কোনো নির্মাণকাজ যদি অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে অর্থ বিভাগের অনুমতি নিয়ে সেই কাজ চলমান রাখা যাবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি সরকারের বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ বা মৌলিক প্রশিক্ষণের বিদেশ পর্ব উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন বা কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জটিল বা বাধ্যতামূলক পণ্যের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে, তবে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বেশ কয়েকটি খাতে ব্যয় সীমিত বা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বুধবার এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এই নির্দেশনা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, সরকারি খাতের করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের থোক বরাদ্দ (অর্থনৈতিক কোড ৩৯১১১১১ ও ৪৯১১১১১) থেকে ব্যয় বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ও স্থগিত করা হয়েছে। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো টিওএন্ডইভুক্ত যানবাহন প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কেনাকাটা করা যাবে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া অন্যান্য নতুন বা প্রতিস্থাপন করা জিপ ও কার অবশ্যই সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের আওতায়ও যান কেনা বন্ধ থাকবে, তবে পরিপত্র জারির আগে অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিলযোগ্য।

অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে কোনো নির্মাণকাজ যদি অন্তত ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে অর্থ বিভাগের অনুমতি নিয়ে সেই কাজ চলমান রাখা যাবে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম বা ঋণ প্রদানও স্থগিত করা হয়েছে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে সব ধরনের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি সরকারের বৃত্তি বা ফেলোশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নে আয়োজিত প্রশিক্ষণ বা মৌলিক প্রশিক্ষণের বিদেশ পর্ব উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পণ্য জাহাজীকরণের পূর্বপর্যায়ের পরিদর্শন বা কারখানায় গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জটিল বা বাধ্যতামূলক পণ্যের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি সনদপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বিবেচনা করা হবে, তবে এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।