লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কয়েক মাস চলবে আলোচনা

বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আগামী কয়েক মাস আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার আইএমএফের একটি মিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সম্ভাব্য ঋণের আকার, কর্মসূচির পরিধি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারমূলক অঙ্গীকারসমূহ।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের কর্মকর্তা ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সরকারের আমন্ত্রণে ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা করা। ইভো ক্রজনার জানান, সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নীতিগত পরিকল্পনা ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যম মেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা গেলে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হতে পারে বলে মিশন মনে করছে।

প্রতিনিধিদলটি জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিজনিত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ভর্তুকি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রবাসী আয়ের ধারা শক্তিশালী রয়েছে।

আইএমএফের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। বিনিময় হার নমনীয় করতে ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে। উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদিত আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পাঁচটি কিস্তি ছাড়ের পর উভয়পক্ষের সম্মতিতে তা স্থগিত করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর কলেজে দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭

নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কয়েক মাস চলবে আলোচনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আগামী কয়েক মাস আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার আইএমএফের একটি মিশন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সম্ভাব্য ঋণের আকার, কর্মসূচির পরিধি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কারমূলক অঙ্গীকারসমূহ।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের কর্মকর্তা ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সরকারের আমন্ত্রণে ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা করা। ইভো ক্রজনার জানান, সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে নীতিগত পরিকল্পনা ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে।

আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যম মেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা গেলে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হতে পারে বলে মিশন মনে করছে।

প্রতিনিধিদলটি জানায়, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিজনিত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ভর্তুকি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে চাপ সৃষ্টি করলেও প্রবাসী আয়ের ধারা শক্তিশালী রয়েছে।

আইএমএফের মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়াতে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি বজায় রাখা প্রয়োজন। বিনিময় হার নমনীয় করতে ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশলের আওতায় পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে। উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদিত আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পাঁচটি কিস্তি ছাড়ের পর উভয়পক্ষের সম্মতিতে তা স্থগিত করা হয়েছিল।