লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলের ইতিহাস বদলে আর্জেন্টাইন মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্প

আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারে এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়ে, তবে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এটি পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। এবারের আসরে তিনি ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে থাকলেও দর্শকরা এবার দেখছেন এক ভিন্ন মেসিকে। ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ উইঙ্গারের সঙ্গে বর্তমান মেসির পার্থক্য অনেক। এরই মধ্যে ৮ গোল করা এমবাপ্পের সামনে আর একটি ম্যাচ বাকি, ফলে গোল্ডেন বুটের ফয়সালা এখনই নিশ্চিত নয়। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে সব নজর থাকবে মেসির দিকেই।

বয়সের সঙ্গে বেশিরভাগ ফুটবলারের পারফরম্যান্স কমে গেলেও কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলেন। যেমন গতি কমে যাওয়ার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেকে বক্সের ভেতরের গোলশিকারিতে রূপান্তর করেছিলেন। মেসিও ঠিক সেভাবেই নিজেকে বদলেছেন, যাতে এখনও খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। এই বিশ্বকাপে তিনি আগের চেয়ে কম দৌড়েছেন, কিন্তু অনেক বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তার ৩৩টি শট ও ২১টি গোলের সুযোগ তৈরির রেকর্ড মিলিয়ে মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান, যা ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি মাঠে যে দূরত্ব অতিক্রম করেছেন, তার ৪৭ শতাংশই হেঁটেছেন, যা টুর্নামেন্টে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। প্রতি ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে কম। এছাড়া প্রতি ম্যাচে তার গড় স্প্রিন্ট মাত্র ২.৭টি, যা চার বছর আগে ছিল ৫.৩টি। গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কেবল পোল্যান্ডই মেসিকে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছে; এই ১৫ ম্যাচে তার অবদান ১৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট।

২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সী মেসি যখন হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক করেন, তখন তিনি ছিলেন ডান প্রান্তের উইঙ্গার। ড্রিবলিং করতেন এবং ভেতরে কেটে এসে আক্রমণ গড়তেন। এরপর থেকে অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন তিনি। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাই তাকে আজকের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসিতে পরিণত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোটি ডলারের কর্মসূচি

ফুটবলের ইতিহাস বদলে আর্জেন্টাইন মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্প

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা যদি ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারে এবং ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে এই কীর্তি গড়ে, তবে সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। এটি পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। এবারের আসরে তিনি ইতিমধ্যে আটটি গোল করেছেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে শীর্ষে থাকলেও দর্শকরা এবার দেখছেন এক ভিন্ন মেসিকে। ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ উইঙ্গারের সঙ্গে বর্তমান মেসির পার্থক্য অনেক। এরই মধ্যে ৮ গোল করা এমবাপ্পের সামনে আর একটি ম্যাচ বাকি, ফলে গোল্ডেন বুটের ফয়সালা এখনই নিশ্চিত নয়। বুধবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, যেখানে সব নজর থাকবে মেসির দিকেই।

বয়সের সঙ্গে বেশিরভাগ ফুটবলারের পারফরম্যান্স কমে গেলেও কিংবদন্তিরা নিজেদের নতুনভাবে গড়ে তোলেন। যেমন গতি কমে যাওয়ার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেকে বক্সের ভেতরের গোলশিকারিতে রূপান্তর করেছিলেন। মেসিও ঠিক সেভাবেই নিজেকে বদলেছেন, যাতে এখনও খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। এই বিশ্বকাপে তিনি আগের চেয়ে কম দৌড়েছেন, কিন্তু অনেক বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। তার ৩৩টি শট ও ২১টি গোলের সুযোগ তৈরির রেকর্ড মিলিয়ে মোট ৫৪টি আক্রমণাত্মক অবদান, যা ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি মাঠে যে দূরত্ব অতিক্রম করেছেন, তার ৪৭ শতাংশই হেঁটেছেন, যা টুর্নামেন্টে কোনো আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। প্রতি ৯০ মিনিটে তিনি গড়ে মাত্র ৮.২ কিলোমিটার দৌড়েছেন, যা আর্জেন্টিনার অন্তত ২০ মিনিট খেলা সব আউটফিল্ড ফুটবলারের মধ্যে সবচেয়ে কম। এছাড়া প্রতি ম্যাচে তার গড় স্প্রিন্ট মাত্র ২.৭টি, যা চার বছর আগে ছিল ৫.৩টি। গত ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচে কেবল পোল্যান্ডই মেসিকে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট থেকে বিরত রাখতে পেরেছে; এই ১৫ ম্যাচে তার অবদান ১৬ গোল ও ৭ অ্যাসিস্ট।

২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সী মেসি যখন হোসে মরিনহোর পোর্তোর বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক করেন, তখন তিনি ছিলেন ডান প্রান্তের উইঙ্গার। ড্রিবলিং করতেন এবং ভেতরে কেটে এসে আক্রমণ গড়তেন। এরপর থেকে অন্তত পাঁচবার নিজের খেলার ধরন বদলেছেন তিনি। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাই তাকে আজকের আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির মেসিতে পরিণত করেছে।