লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের নতুন ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি অপসারণ করে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও ভাস্কর্যের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গঠিত ১৪ সদস্যের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনে এই কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্যটি অবহেলায় পড়ে ছিল এবং গত ১৪ জুলাই এটি ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা এই অবমাননা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, বিগত দিনে ভাস্কর্যটি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এখন উপযুক্ত জায়গায় সঠিক মর্যাদায় ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন জানান, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ থাকায় অনেকে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতেন না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে ভাঙার কাজ স্থগিত রয়েছে এবং তারা পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ২০১৯ সাল থেকেই স্থাপনাটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এখন জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপযুক্ত স্থানে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ অজ্ঞাত কারণে শেষ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়। গত ১৩ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এটি ভাঙার কাজ চললেও কোনো কর্তৃপক্ষ এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ১৬ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ভাঙার কাজ স্থগিত করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের নতুন ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি অপসারণ করে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও ভাস্কর্যের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গঠিত ১৪ সদস্যের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনে এই কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সভায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা মো. হাফিজুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও পরবর্তী সময়ে ভাস্কর্যটি অবহেলায় পড়ে ছিল এবং গত ১৪ জুলাই এটি ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা এই অবমাননা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি একই স্থানে ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, বিগত দিনে ভাস্কর্যটি নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এখন উপযুক্ত জায়গায় সঠিক মর্যাদায় ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন জানান, ভাস্কর্যটি অসম্পূর্ণ থাকায় অনেকে এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতেন না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বর্তমানে ভাঙার কাজ স্থগিত রয়েছে এবং তারা পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপনের প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, ২০১৯ সাল থেকেই স্থাপনাটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। এখন জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে উপযুক্ত স্থানে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ অজ্ঞাত কারণে শেষ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়। গত ১৩ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এটি ভাঙার কাজ চললেও কোনো কর্তৃপক্ষ এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ১৬ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ভাঙার কাজ স্থগিত করে।