লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে ইরানের পাল্টা হামলা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, কারিগরি অবকাঠামোর একাংশে আগুন লেগেছে এবং মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মীরা নিহত হয়েছেন। এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে তারা, যেখানে অনেক মার্কিন সেনা নিহত এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং অবশিষ্ট তিনটি লোকালয় থেকে দূরে পতিত হয়েছে, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আল–জাজিরাকে দেওয়া মার্কিন সূত্রের ভাষ্যমতে, ক্যাম্প তিতিন–এ কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কারণ মার্কিন বাহিনী হামলা প্রতিহত করেছে।

উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এতে একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম, একটি নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে এবং ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ প্রতিহত করেছে, যা ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যা রাডার স্থাপনা ও মার্কিন সেনা মোতায়েন এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই ঘাঁটিটি পারস্য উপসাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহ এবং আহভাজ প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরান দাবি করেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার জবাবেই তারা এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষ ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে নরসিংদীতে সওজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে ইরানের পাল্টা হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে থাকা দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, কারিগরি অবকাঠামোর একাংশে আগুন লেগেছে এবং মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মীরা নিহত হয়েছেন। এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে তারা, যেখানে অনেক মার্কিন সেনা নিহত এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস হয়েছে বলে তাদের দাবি।

তবে জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই ক্ষয়ক্ষতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং অবশিষ্ট তিনটি লোকালয় থেকে দূরে পতিত হয়েছে, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আল–জাজিরাকে দেওয়া মার্কিন সূত্রের ভাষ্যমতে, ক্যাম্প তিতিন–এ কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কারণ মার্কিন বাহিনী হামলা প্রতিহত করেছে।

উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এতে একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম রাখার গুদাম, একটি নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে এবং ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ প্রতিহত করেছে, যা ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতেও এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যা রাডার স্থাপনা ও মার্কিন সেনা মোতায়েন এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই ঘাঁটিটি পারস্য উপসাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান, আসলুয়েহ এবং আহভাজ প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরান দাবি করেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার জবাবেই তারা এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখে, তবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।