লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর পরামর্শে ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধ

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে তাঁর গোয়েন্দাপ্রধানকে ডেকে পাঠান। পূর্ণমাত্রার হামলার ঝুঁকি ও যৌক্তিকতা যাচাই করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তবে সেই সময়ে প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ এক সহকারী এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে পরামর্শ দেন যে, ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার এবং একজন ‘শান্তিদূত’ হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি গড়ার বিরল সুযোগ বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে বড় ধরনের এই হামলা আদৌ কাজ করবে কি না এবং তা সেখানকার শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

সেই সময় তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলে সেখানে আরও কঠোরপন্থী ও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে ইচ্ছুক নতুন শাসনব্যবস্থা ক্ষমতায় আসতে পারে। এছাড়া তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও তাদের অংশীদারদের ওপর ইরান পাল্টা হামলা চালাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বস্ততা নিয়ে মিত্রদের মনে প্রশ্ন তুলবে। সাবেক ডিএনআই প্রধানের এই সতর্কবার্তা ছিল সব পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে দেওয়া সতর্কবাণীরই প্রতিধ্বনি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধ প্রাণহানি ঘটাবে, অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করবে এবং ইতিমধ্যে চাপে থাকা মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতায় ঘাটতি সৃষ্টি করবে।

সমস্ত শঙ্কা পেছনে ফেলে ট্রাম্প ইসরায়েলির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শ শুনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন এবং ইরানের জনগণকে তাঁদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। যে যুদ্ধ ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা এখন প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। নিহত বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থা নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না। যুদ্ধের এই অচলাবস্থা ট্রাম্পকে এমনকি কোনো পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হলে বিজয় ঘোষণার কথা ভাবতে বাধ্য করছে।

বর্তমানে ট্রাম্প অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার ওপর ভরসা রাখছেন। দিনের পর দিন এই অবরোধ মার্কিন বাহিনীকে ক্ষয়িষ্ণু করে তুললেও তাঁর আশা, এটি ইরানের অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দেবে। এই সামরিক অভিযানে প্রায় তিন হাজার ইরানি এবং ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, অতিরিক্ত ৭৫৬ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষতি করেছে, তেলের মজুত কমিয়েছে এবং গোলাবারুদের ভান্ডার খালি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনাকে সংকটে ফেলছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। হোয়াইট হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তার সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, ট্রাম্প যা চান তা সহজে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তিনি এমন একটি চুক্তি চান, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে থামিয়ে দেবে এবং ইতিহাসের পাতায় তাঁকে একজন সফল যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরবে। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক ব্রিউয়ার বলেন, ‘এসবের প্রতিটি বিষয়ই অনুমেয় ছিল এবং আগে থেকেই এর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সিআইএ ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ এবং ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান ইরানবিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ মার-এ-লাগোতে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ঢুকে ট্রাম্পকে জানান, ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। ট্রাম্প এতে এতটাই আনন্দিত হন যে তিনি তাঁদের এই খবর সমবেত অতিথিদের জানাতে বলেন এবং পুরো কক্ষ করতালি ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে ট্রাম্পের এই উজ্জ্বল হাসি বেশি দিন টেকেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি এবং মার্কিন সরঞ্জাম ও ঘাঁটির ধ্বংসযজ্ঞ এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এপ্রিলের মাঝামাঝিও ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। ১৭ জুন একটি অগ্রগতি আসে—প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার পথ প্রস্তুত করে। তবে জুন মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তির পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আবার হামলা শুরু করে। ট্রাম্প এটাকে নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন। পারমাণবিক আলোচনার ৬০ দিনের মেয়াদ ১৭ আগস্ট শেষ হয়ে গেছে। এর তিন দিন পর অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ট্রাম্প এখন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীন সরকার পতন ঘটাতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর সেই পুরোনো সরকার পরিবর্তনের কৌশলই আবারও ফিরে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ৮ জোনে ভাগ করে নতুন নীতিমালা

গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা করে নেতানিয়াহুর পরামর্শে ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে তাঁর গোয়েন্দাপ্রধানকে ডেকে পাঠান। পূর্ণমাত্রার হামলার ঝুঁকি ও যৌক্তিকতা যাচাই করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তবে সেই সময়ে প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ এক সহকারী এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁকে পরামর্শ দেন যে, ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার এবং একজন ‘শান্তিদূত’ হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি গড়ার বিরল সুযোগ বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে বড় ধরনের এই হামলা আদৌ কাজ করবে কি না এবং তা সেখানকার শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

সেই সময় তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলে সেখানে আরও কঠোরপন্থী ও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে ইচ্ছুক নতুন শাসনব্যবস্থা ক্ষমতায় আসতে পারে। এছাড়া তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও তাদের অংশীদারদের ওপর ইরান পাল্টা হামলা চালাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বস্ততা নিয়ে মিত্রদের মনে প্রশ্ন তুলবে। সাবেক ডিএনআই প্রধানের এই সতর্কবার্তা ছিল সব পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে দেওয়া সতর্কবাণীরই প্রতিধ্বনি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধ প্রাণহানি ঘটাবে, অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করবে এবং ইতিমধ্যে চাপে থাকা মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতায় ঘাটতি সৃষ্টি করবে।

সমস্ত শঙ্কা পেছনে ফেলে ট্রাম্প ইসরায়েলির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরামর্শ শুনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার নির্দেশ দেন এবং ইরানের জনগণকে তাঁদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান। যে যুদ্ধ ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা এখন প্রায় ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে তার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দেশটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। নিহত বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়া সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থা নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না। যুদ্ধের এই অচলাবস্থা ট্রাম্পকে এমনকি কোনো পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হলে বিজয় ঘোষণার কথা ভাবতে বাধ্য করছে।

বর্তমানে ট্রাম্প অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার ওপর ভরসা রাখছেন। দিনের পর দিন এই অবরোধ মার্কিন বাহিনীকে ক্ষয়িষ্ণু করে তুললেও তাঁর আশা, এটি ইরানের অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দেবে। এই সামরিক অভিযানে প্রায় তিন হাজার ইরানি এবং ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, অতিরিক্ত ৭৫৬ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষতি করেছে, তেলের মজুত কমিয়েছে এবং গোলাবারুদের ভান্ডার খালি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনাকে সংকটে ফেলছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সূচক তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। হোয়াইট হাউস ও জাতীয় নিরাপত্তার সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, ট্রাম্প যা চান তা সহজে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তিনি এমন একটি চুক্তি চান, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে থামিয়ে দেবে এবং ইতিহাসের পাতায় তাঁকে একজন সফল যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরবে। নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক ব্রিউয়ার বলেন, ‘এসবের প্রতিটি বিষয়ই অনুমেয় ছিল এবং আগে থেকেই এর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।’

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর সিআইএ ডিরেক্টর জন র‍্যাটক্লিফ এবং ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান ইরানবিষয়ক প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ মার-এ-লাগোতে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ঢুকে ট্রাম্পকে জানান, ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। ট্রাম্প এতে এতটাই আনন্দিত হন যে তিনি তাঁদের এই খবর সমবেত অতিথিদের জানাতে বলেন এবং পুরো কক্ষ করতালি ও উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে ট্রাম্পের এই উজ্জ্বল হাসি বেশি দিন টেকেনি। যুদ্ধক্ষেত্রের ক্ষতি এবং মার্কিন সরঞ্জাম ও ঘাঁটির ধ্বংসযজ্ঞ এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এপ্রিলের মাঝামাঝিও ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। ১৭ জুন একটি অগ্রগতি আসে—প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনার পথ প্রস্তুত করে। তবে জুন মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তির পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আবার হামলা শুরু করে। ট্রাম্প এটাকে নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করেন। পারমাণবিক আলোচনার ৬০ দিনের মেয়াদ ১৭ আগস্ট শেষ হয়ে গেছে। এর তিন দিন পর অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, ট্রাম্প এখন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অধীন সরকার পতন ঘটাতে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর সেই পুরোনো সরকার পরিবর্তনের কৌশলই আবারও ফিরে এসেছে।