লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা চুক্তি নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়, জানালেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং এ দেশের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বহুল আলোচিত 'মক্কা চুক্তি' ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয় বলেও মনে করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মক্কা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে জালিল রাহিমি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ বা চ্যালেঞ্জ নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তেহরান সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। তাই এই চুক্তি নিয়ে ইরানের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, ইরান কখনোই কোনো আরব দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি। বরং তারা কেবল ওই সব দেশে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোকে কি ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যখন তেল আবিবের দিকে ছুটে গেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাতে পারেনি।

জালিল রাহিমি আরও বলেন, অতীতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র কেনার বিনিময়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দিত যুক্তরাষ্ট্র। একই অজুহাতে ইরানেও হামলা চালানো হয়েছিল শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন, ইউরেনিয়াম দখল ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধের উদ্দেশ্যে। তবে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এমনকি গত রাতেও জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

মক্কা চুক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। এই চুক্তিতে ইরানের যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ইরান নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তবে সদস্যদেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১০ বছর আগে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠন ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিলেও তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল: প্রতি লিটার এখন ২০৪ টাকা

মক্কা চুক্তি নিয়ে ইরান চিন্তিত নয়, জানালেন ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং এ দেশের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বহুল আলোচিত 'মক্কা চুক্তি' ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয় বলেও মনে করেন তিনি। আজ বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মক্কা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে জালিল রাহিমি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ বা চ্যালেঞ্জ নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তেহরান সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। তাই এই চুক্তি নিয়ে ইরানের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, ইরান কখনোই কোনো আরব দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে হামলা চালায়নি। বরং তারা কেবল ওই সব দেশে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোকে কি ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যখন তেল আবিবের দিকে ছুটে গেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাতে পারেনি।

জালিল রাহিমি আরও বলেন, অতীতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র কেনার বিনিময়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দিত যুক্তরাষ্ট্র। একই অজুহাতে ইরানেও হামলা চালানো হয়েছিল শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন, ইউরেনিয়াম দখল ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি বন্ধের উদ্দেশ্যে। তবে ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এমনকি গত রাতেও জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকের কুর্দিস্তানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

মক্কা চুক্তিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে মার্কিন অস্ত্রের স্তূপ তাদের প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না। এই চুক্তিতে ইরানের যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ইরান নিজ থেকে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তবে সদস্যদেশগুলো আমন্ত্রণ জানালে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রায় ১০ বছর আগে ইরান পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠন ও যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দিলেও তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর বিরোধিতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।